বৃটেনে মদসহ যাত্রী বহনে অস্বীকৃতি : মুসলিম ট্যাক্সি চালক বরখাস্ত

Image

ব্রিটেনে মদসহ যাত্রী বহনে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এক মুসলিম ট্যাক্সি চালককে তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 এ বিষয়ে ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ম্যানচেস্টারের একটি ভারতীয় রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যাওয়ার জন্য আড্রিয়ান কার্টরাইট নামে এক ব্রিটিশ তার পরিবারের জন্য একটি ট্যাক্সি ভাড়া করেন।

গাড়িতে ওঠার পাঁচ মিনিট পর চালক ওই পরিবারের সদস্যদের কাছে মদের বোতল দেখতে পান। এতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রী বহনে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ‘এটা তার ধর্মবিরোধী কাজ’।

এরপর কার্টরাইট ট্যাক্সি কোম্পানির কাছে এ ঘটনার সবিস্তার বর্ণনা দিয়ে অভিযোগ করেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি চালককে বরখাস্ত করে। কোম্পানিটির অধীনে প্রায় ৭০ জন মুসলিম চালক রয়েছেন বলে জানা গেছে। অবশ্য, বরখাস্ত হওয়া চালকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

সূত্র: ইন্টারনেট

Advertisements

সচিবকে সোহেল তাজের চিঠি: পদত্যাগের পরও বেতন-ভাতা কেন

পদত্যাগ করার পরও কেনো বেতন-ভাতা তার একাউন্টে দেয়া হচ্ছে এবং এখনো পদত্যাগের গ্যাজেট নোটিফিকেশন কোনো হয়নি, তা জানতে চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে দু’টি চিঠি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়া আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল তাজ।

মঙ্গবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে তার এক বাহক মারফত এ চিঠি দুটি পাঠান তিনি।

প্রথম চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মাসিক পারিতোষিক ও ভাতাদির বিষয় উল্লেখ করেন সোহেল তাজ। আর দ্বিতীয় চিঠিতে পদত্যাগের পরেও কোনো এখন পর্যন্ত গ্যাজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়নি সি বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। তবে দুটি চিঠিতেই কিভাবে বেতনভাতা তার একাউন্টে জমা হচ্ছে, তা উল্লেখ করেন সোহেল তাজ।

প্রথম চিঠিতে বলা হয়, ‘‘আমি ৩১ মে ২০০৯ সালে প্রতিমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করি। এর পরেও ন্যাশনাল ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় আমার নামে টাকা জমা হচ্ছে।’’ কেনো টাকা জমা হচ্ছে তা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠির মারফত জানাতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘‘সংবিধানের ৫৮ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৩১ মে ২৯৯০ আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগ পত্র দেই। অথচ এতা দিনেও পদত্যাগের বিষয়টি গ্যাজেট নোটিফিকেশন হিসেবে জারি করা হয়নি।’’ ২০০৯ সালে পদত্যাগের পরেও টাকা জমা হচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘‘এই টাকার জন্য সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’’

চিঠিতে আরো বলা হয়, মন্ত্রী থাকাকালে প্রতিমন্ত্রী নিজে বেতন-ভাতার বিলে সাক্ষর করতেন। পদত্যাগের পরে কিভাবে বেতন-ভাতা তার একাউন্টে জমা হচ্ছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রি পরিষদ সচিবকে চিঠির মাধ্যমে এর উত্তর দেয়ার জন্যও বলা হয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘তিনি এখনো দফতর বিহীন মন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হবে।’’

সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি নিতে পদত্যাগ পত্র জমা দেন ২০০৯ সালের ৩১ মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েই তিনি চলে যান দেশের বাইরে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে এসে তিনি প্রতিমন্ত্রীর প্রটোকল নেননি। এর পরে তার ব্যাংক একাউন্টে প্রতিমন্ত্রীর বেতন-ভাতা পাঠানো হলেও তিনি তা উঠাননি।

সর্বশেষ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে বেতন-ভাতা কোনো পাঠানো হচ্ছে এবং সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তার বাহক মারফত চিঠি পাঠান সোহেল তাজ।

সৌজন্যে: বার্তা২৪ ডটনেট

স্বামীকেই সবচেয়ে বেশি ফোন করে বিবাহিত নারীরা

বেশি রোমান্টিক—তুমি না আমি? মান-অভিমানের এমন তর্কের এবার একটা উত্তর মিলল। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত

এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে দাম্পত্য-জীবনে রোমান্টিক সম্পর্কের ব্যাপারে নারীরাই বেশি তাড়িত। লন্ডনভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে’ এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবাইল ফোনে কথা বলা ও খুদে বার্তা পাঠানোর ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৩০ লাখ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ওপর গবেষণাটি চালান হয়। এই গবেষণার মূল লক্ষ্যই ছিল স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক আসলে কত দিন একই থাকে কিংবা তাঁরা আসলে কতটা কাছাকাছি থাকেন—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা। আর এ গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফলে যা পাওয়া গেছে তা হলো—অন্য কাউকে নয়, স্বামীকেই সবচেয়ে বেশি ফোন করে বিবাহিত নারীরা।
এ গবেষণায় দেখা গেছে, যুগলবন্দি জীবন পুরুষের চেয়ে নারীর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই জীবনকে রোমান্টিক করতে নারীরাই বেশি উদ্যোগী। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, নারীরা যখন দাদি বা নানি হন, তখন স্বামীর প্রতি তাঁদের এই আগ্রহ অনেকটাই ফিকে হতে থাকে। এ সময় নাতি-নাতনিরাই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্ব পায়।
স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে ফোন করার মাত্রা থেকে গবেষকেরা প্রমাণ করেন যে পুরুষেরা তাঁদের বিবাহিত জীবনের প্রথম সাত বছর স্ত্রীদের বেশি ফোন করেন। এরপর থেকে তাঁদের মনোযোগ অন্যান্য বন্ধু-বান্ধবদের দিকে ধাবিত হয়। অন্যদিকে, ৩০-এর ঘরে পা দেওয়ার পর থেকে নারীরা স্বামীর চেয়ে কাছের বন্ধুটির প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে। আর ৪৫-এর পর থেকে নাতি-পুতিরাই তাঁদের নতুন বন্ধু হয়ে ওঠে। তাই এ সময় বুড়ো স্বামীরা তাঁদের স্ত্রীর কাছ থেকে খুব কমই ফোন পেয়ে থাকেন।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৩০-এর পরে পুরুষেরা একই বয়সী নারী সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুর মতো ব্যবহার করেন। কিন্তু, সাত বছর যেতে না যেতেই তাঁদের আচরণে পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে, নারীরা ২০ বছর বয়স থেকেই একই বয়সী পুরুষ সঙ্গীকে ভালো বন্ধু হিসেবে দেখতে পছন্দ করে। তবে, ১৫ বছর পর থেকে তাঁদের এই পছন্দের খাতাতেও পরিবর্তন আসতে থাকে।
এ ব্যাপারে গবেষকেরা বলছেন, নারীদের সামাজিক জীবন আসলে একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খায়। তাই প্রথমে স্বামী, তারপর ছেলেমেয়ে এবং সবশেষে নাতি-পুতির সঙ্গী হয়ে পর্যায়ক্রমে তাঁরা তাঁদের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোতে পরিবর্তন আনেন।
এ গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধ্যাপক ডানবার প্রমাণ করতে চেয়েছেন, মানব-সমাজের পিতৃতান্ত্রিক রূপটি ক্রমেই মাতৃতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পুরুষেরা সম্পর্কের ব্যাপারে খুব বেশি অমনোযোগী। তাঁরা উচ্চমাত্রায় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু বিবেচনা করতে ভালোবাসে। কিন্তু দিন শেষে দেখা যায়, নারীরাই সমাজ কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিলুপ্তির পথে আন্দামানের আদিবাসী

ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীরা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বাসস্থান সঙ্কট, মহামারীর প্রকোপ এবং জীবিকার সুযোগ না থাকায় আদিবাসী ৪শ’ জরোয়া গোষ্ঠী ওই দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অতি আধুনিক এই যুগেও তারা শিকারের জন্য তীর-ধনুক ব্যবহার করে থাকে।
আগে আন্দামান দ্বীপের পর্যটকদের বিনোদনের জন্য জরোয়া নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হতো। যা মানুষের শিকারে অন্য মানুষ ব্যবহারের মতো গর্হিত। নীতিনির্ধারণে অবহেলা ও পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি আদিবাসীদের বিপন্ন হওয়ার পেছনে বড় কারণ বলে মনে করছে সচেতন মহল।
অনেক সমাজকর্মী এই দ্বীপকে বহির্বিশ্ব থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে জরোয়াদের রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন। তবে ৬ লাখ মানুষের খাদ্য ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি এই পদক্ষেপের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সচেতনদের মনে একটি প্রশ্ন-আন্দামানকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে না কি সুসংযোগ করতে হবে? আলজাজিরা।

%d bloggers like this: