যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?

যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?

শারদীয়া রিপোর্ট: সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাজ্যে প্রথম হাইকমিশনার হিসেবে ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল নিয়োগ প্রদান করেছিলেন ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহচর সৈয়দ আব্দুস সুলতান (এস এ সুলতান) কে। ময়মনসিংহের প্রখ্যাত সৈয়দ পরিবারের সন্তান সৈয়দ আবদুস সুলতান ছিলেন একনিষ্টভাবে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী এবং রক্তেমাংশে আওয়ামী লীগার। যুক্তরাজ্যের মত একটি দেশ- যেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে মূল প্রচারণার কাজ চলেছিল, সেখানে সদ্য স্বাধীন দেশের মুখপাত্র হিসেবে সৈয়দ আবদুস সুলতানের নিয়োগ প্রমান করে তিনি বঙ্গবন্ধুর কতটা কাছের এবং প্রিয় ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়াণের পর সৈয়দ আবদুস সুলতানের খবর আর কেউ রাখেনি। এমনি এক সৈয়দ আবদুস সুলতানের উত্তরাধিকারীগণ পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে কেমন আছেন, কোথায় আছেন- সে বিষয়ে পরবর্তীতের রাষ্ট্র আর কোন খোঁজ-খবর রাখেনি। এই ঢাকা মহানগরীতেই সৈয়দ আবদুস সুলতানের বংশধরগণ রয়েছেন এবং এক প্রকার মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বলে রাখা ভাল সুসাহিত্যিক, প্রখাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবদুস সুলতান ছিলেন দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর জীবদ্দশাতেই ছোট কন্যা হাসিনা খাতুন ১৯৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।  সৈয়দ আবদুস সুলতানের ছোট পুত্র অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদুজ্জামান ইকবাল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন অকৃতদার। বড় পুত্র যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ পেশায় ছিলেন শিক্ষক। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ক্যামব্রিজ থেকে একবার বৈরুতে যাবার সময় বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হলে  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী ডা. হোসনে আরা শিরিন এর সংসারে দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। তিনি ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করার পর এ সংসারেও দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি শ্বশুর বাড়িতে (দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বাড়িতে) আশ্রিত ছিলেন এবং সেখানেই ১৯৯৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর ২০০৩ সালে প্যারালাইসড হয়ে শয্যাশায়ী হন। সেখানেই তিনি ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন।

সৈয়দ আবদুস সুলতানের বড় কন্যা খালেদা রশীদ তাঁর প্রথম স্বামীর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দ্বিতীয় স্বমী ডা. রশীদের সংসারে গেলে সেখানেও একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ডা. রশীদ ছিলে সজ্জন মানুষ, তাঁর জীবদ্দশায় খালেদাকে বাবার (তার শ্বশুরের) সম্পত্তি নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে বাঁধা দিয়ে বলেছিলেন, “তোমাকে আমি সব করে দিয়েছি, তোমার বাবার সম্পত্তি তোমার ভাইয়েরা ভোগ করুক।” স্বামী বেঁচে থাকতে খালেদা যা করতে পারেননি, তার মৃত্যুর পর কোটিপতি খালেদার মনে পুষে রাখা লোভ ও ঈর্ষার আগুনে পুড়ল ছোট ভাইয়ের এতিম সন্তানরা।

সৈয়দ আবদুস সুলতানের বড় পুত্র সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের প্রথম স্ত্রীর সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে তার সাথে সংসার করতে থাকেন। সৈয়দ আবদুস সুলতানের গুলশান ১ নং অ্যাভিনিউ রোডে এক বিঘার ওপর বিশাল বাড়ি ছিল। সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ অসুস্থ থাকার সময় বর্ণিত বাড়ির ভাড়াটিয়া (প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা) প্রতারণা করে তার স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ি বিক্রির জাল দলিল তৈরী করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বড় বোন খালেদা রশীদ ঐ বিষয়টি সমাধান করার জন্য ২০০৫ সালে জনৈক জমির দালাল হাজী বেলাল হোসেন এর মধ্যস্থতায় অসুস্থ ভাইয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। যেহেতু  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ অসুস্থ ছিলেন, তাই তিনি পিতার সম্পত্তি উদ্ধারে কোন প্রত্যক্ষ ভ‚মিকা রাখতে পারেননি। বলাবাহুল্য, বৈরুতে বিমান দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকে  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিলেন; একারণে তিনি পরবর্তীতে কখনো কখনো গুছিয়ে কথা বলতে পারতেন না বা সবকথা বুঝতে পারতেন না। বলা যায় তিনি তখন হয়ে ওঠেন মানসিক প্রতিবন্ধি। উল্লেখ্য তার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমেদুজ্জামান ইকবাল জীবনের একপর্যায়ে  পুরোপুরি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন; ফলে তিনি আইনজীবি হয়েও কখনো প্র্যাকটিস করতে পারেননি। সৈয়দ আবদুস সুলতানের পরিবারে একজন মানসিক প্রতিবন্ধি রয়েছে; সমাজে লোকলজ্জার ভয়ে তারা কখনো ছোট ভাইকে চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত নিয়ে যাননি। ভাই সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের যখন এমনি অবস্থা, তখন বড় বোন সেই সুযোগ গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারে (দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের) অগোচরে ভাইয়ের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরে জানা যায়, তিনি তাদের পিতার সম্পত্তি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ কোন অর্থ তার ভাইকে দেননি; এমনকি ভাইয়ের চিকিৎসার জন্যও কোন অর্থ প্রদান করেননি। (চলবে)

Advertisements

আপনার মন্তব্য এখানে লিখুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: