যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?- দ্বিতীয় পর্ব

পিতার সম্পত্তি গোপনে ও অবৈধভাবে বিক্রির পর, কাকতালীয়ভাবে সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের দ্বিতীয় স্ত্রী জানতে পারেন। এখানে বলে রাখা ভাল, খালেদা রশীদ যাদের দিয়ে সম্পত্তি বিক্রির দলিল লিখিয়ে ছিলেন, তাদের সাথে টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে গোলমাল হওয়ায় তারা সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের দ্বিতীয় স্ত্রী কুহেলী জামান এর কাছে বিক্রিত দলিলের নকল পৌঁছে দেন। ঐ দলিল নিয়ে কুহেলী জামান তার স্বামী সৈয়দ মাহামুদুজ্জামান ফিরোজসহ খালেদা রশীদের কাছে গেলে তিনি দলিলের বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
মৃত্যুর তিন মাস আগে সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ স্ত্রী কুহেলী জামানকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য পাওয়ার অব এটর্ণি প্রদান করলে, কুহেলী জামান ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় জিডি করে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। ইউনাইটেড গ্রুপ জমি বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতারণার বিষয় অবগত নয় বলে জানান। তবে সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজের মৃত্যুর দিনে মানবিক কারণে ইউনাইটেড গ্রুপ কুহেলী জামানের কাছে সহায়তা হিসেবে কিছু টাকা প্রেরণ করে; যা দিয়ে কুহেলী জামান হাসপাতালে বিশাল অংকের বিল পরিশোধ করতে পেরেছিলেন। হাসপাতালে অবস্থানকালে (কোমায়- লাইফ সাপোর্ট দেয়া অবস্থায়) বোন খালেদা রশীদ ভাইয়ের অসুস্থাতার জন্য কোন প্রকারের সহানুভূতি দেখাননি বা আর্থিক সহায়তা করেননি। উল্লেখ্য সৈয়দ আবদুস সুলতানের গুলশানের সেই জমিতে এখন ইউনাইটেড গ্রুপের বহতল বিশিষ্ট বিশাল ভবন নির্মিত হচ্ছে।
এভাবেই সৈয়দ আবদুস সুলতানের একমাত্র জীবিত পুত্রের উত্তরাধীকারীদের ( দুই স্ত্রীর মোট ৬ সন্তান) পিতা ও দাদার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন খালেদা রশীদ। এখানেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। পরিবারের অর্থ এককভাবে আত্মসাৎ করার প্রক্রিয়া তিনি এরপরেও চালিয়ে যেতে থাকেন।
সৈয়দ আবদুস সুলতানের স্ত্রী কুলসুম সুলতান, যিনি পেশায় ছিলেন একজন আইনজীবি এবং আইন কলেজের শিক্ষক; তিনি স্বীয় স্বামীর সম্পত্তির অংশ হিসেবে পয়তাল্লিশ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার পেয়েছিলেন; যা কিনা প্রদান করেছিলেন বর্ণিত জমির প্রথম ক্রেতা হাজী বেলাল হোসেন। সেই পে-অর্ডার মায়ের ব্যাংক একাউন্টে জমা না দিয়ে খালেদা রশীদ ইতিপূর্বে মায়ের সাথে তার করা যৌথ একাইন্টে জমা করে আত্মসাতের পথ প্রশস্থ করেন। বর্ণিত যৌথ একাউন্টটি ছিল সোনালী ব্যাংক উত্তরা শাখায়। ভাই সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজের মৃত্যুর পরে কুলখানির দিন খালেদা রশীদ মায়ের অংশের টাকা যৌথ একাউন্টে জমা দেবার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান যে, মায়ের অংশের টাকা তখনও পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে কুলখানীতে তিনি খরচের অংশ দিতে পারতেন।
পরে কুহেলী জামান সোনালী ব্যাংক উত্তরা শাখায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, খালেদা রশীদ বর্ণিত একাউন্ট থেকে ৪২ লক্ষ টাকা একক স্বাক্ষরে তুলে নিয়েছেন; অথচ ততদিনে যৌথ স্বাক্ষর প্রদানকারীর অন্যজন, তার মা গত হয়েছেন। এই টাকার অংশ নিয়মানুসারে সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর পাওয়ার কথা। তার মৃত্যুর পর ঐ টাকার আইনত অংশীদার সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দুই সংসারের ছয় সন্তান। খালেদা রশীদ সকলকেই বঞ্চিত করে এককভাবে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন। এখানেই শেষ নয়,২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ছোট ভাই সৈয়দ আহমেদুজ্জামান ইকবালের মৃত্যুর পর মায়ের দেখাশোনার নাম করে মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে ডাক্তার দেখানোর নামে ভাড়াটে ফ্ল্যাট থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন খালেদা রশীদ। সে সময়ে খালেদা রশীদ তার মায়ের ফ্ল্যাটের যাবতীয় আসবাবপত্র ও স্বর্ণালঙ্কার খালেদা রশীদ কাউকে না জানিয়ে এককভাবে নিয়ে যান।
সম্প্রতি জানা গেছে, সৈয়দ আবদুস সুলতানের স্ত্রী কুলসুম সুলতানের পৈত্রিক সম্পত্তি (যা ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত), যার আইনত অংশীদার সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দুই সংসারের ছয় সন্তান এবং খালেদা রশীদ; সেটিও খালেদা রশীদ এককভাবে দখল করে আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছেন। খালেদা রশীদ পিতার সম্পত্তি বিক্রির টাকা এবং মায়ের টাকা এককভাবে আত্মসাৎ করে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজীর কাছাকাছি জায়গায় খালেদা রশীদ এডুকেয়ার নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা গেছে।
সৈয়দ আবদুস সুলতানের পুত্র সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর প্রথম স্ত্রী ডা. হোসনে আরা শিরিন গত রমাজান মাসে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার দুই পুত্র বর্তমানে ইংল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন। একমাত্র কন্যা পুরান ঢাকায় স্বামী-সন্তানসহ বাস করছেন। সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দ্বিতীয় স্ত্রী কুহেলী জামান, যার কাছেই সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ জীবনের শেষ দিনগুলিতে কাটিয়েছেন এবং তার কাছে মৃত্যুবরণ করেছেন; তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা নিয়ে ২০০৩ সাল থেকে পিতার আশ্রয়ে রয়েছেন (স্বামীও আমৃত্যু সেখানেই ছিলেন)। অর্থাভাবে ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া ও ভরণ-পোশন করতে তাঁর জীবন ওষ্ঠাগত। পিতা-পিতামহ ও পিতামহীর সম্পত্তির ওয়ারিশ সূত্রে যে অংশের দাবীদার, যাতে করে কুহেলী জামান এর সন্তানগণ, সেইটুকু পেতে পারে; সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দ্বিতীয় স্ত্রী কুহেলী জামান।

Advertisements

যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?

যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?

শারদীয়া রিপোর্ট: সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাজ্যে প্রথম হাইকমিশনার হিসেবে ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল নিয়োগ প্রদান করেছিলেন ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহচর সৈয়দ আব্দুস সুলতান (এস এ সুলতান) কে। ময়মনসিংহের প্রখ্যাত সৈয়দ পরিবারের সন্তান সৈয়দ আবদুস সুলতান ছিলেন একনিষ্টভাবে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী এবং রক্তেমাংশে আওয়ামী লীগার। যুক্তরাজ্যের মত একটি দেশ- যেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে মূল প্রচারণার কাজ চলেছিল, সেখানে সদ্য স্বাধীন দেশের মুখপাত্র হিসেবে সৈয়দ আবদুস সুলতানের নিয়োগ প্রমান করে তিনি বঙ্গবন্ধুর কতটা কাছের এবং প্রিয় ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়াণের পর সৈয়দ আবদুস সুলতানের খবর আর কেউ রাখেনি। এমনি এক সৈয়দ আবদুস সুলতানের উত্তরাধিকারীগণ পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে কেমন আছেন, কোথায় আছেন- সে বিষয়ে পরবর্তীতের রাষ্ট্র আর কোন খোঁজ-খবর রাখেনি। এই ঢাকা মহানগরীতেই সৈয়দ আবদুস সুলতানের বংশধরগণ রয়েছেন এবং এক প্রকার মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বলে রাখা ভাল সুসাহিত্যিক, প্রখাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবদুস সুলতান ছিলেন দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর জীবদ্দশাতেই ছোট কন্যা হাসিনা খাতুন ১৯৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।  সৈয়দ আবদুস সুলতানের ছোট পুত্র অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদুজ্জামান ইকবাল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন অকৃতদার। বড় পুত্র যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ পেশায় ছিলেন শিক্ষক। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ক্যামব্রিজ থেকে একবার বৈরুতে যাবার সময় বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হলে  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী ডা. হোসনে আরা শিরিন এর সংসারে দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। তিনি ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করার পর এ সংসারেও দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি শ্বশুর বাড়িতে (দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বাড়িতে) আশ্রিত ছিলেন এবং সেখানেই ১৯৯৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর ২০০৩ সালে প্যারালাইসড হয়ে শয্যাশায়ী হন। সেখানেই তিনি ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন।

সৈয়দ আবদুস সুলতানের বড় কন্যা খালেদা রশীদ তাঁর প্রথম স্বামীর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দ্বিতীয় স্বমী ডা. রশীদের সংসারে গেলে সেখানেও একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ডা. রশীদ ছিলে সজ্জন মানুষ, তাঁর জীবদ্দশায় খালেদাকে বাবার (তার শ্বশুরের) সম্পত্তি নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে বাঁধা দিয়ে বলেছিলেন, “তোমাকে আমি সব করে দিয়েছি, তোমার বাবার সম্পত্তি তোমার ভাইয়েরা ভোগ করুক।” স্বামী বেঁচে থাকতে খালেদা যা করতে পারেননি, তার মৃত্যুর পর কোটিপতি খালেদার মনে পুষে রাখা লোভ ও ঈর্ষার আগুনে পুড়ল ছোট ভাইয়ের এতিম সন্তানরা।

সৈয়দ আবদুস সুলতানের বড় পুত্র সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের প্রথম স্ত্রীর সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে তার সাথে সংসার করতে থাকেন। সৈয়দ আবদুস সুলতানের গুলশান ১ নং অ্যাভিনিউ রোডে এক বিঘার ওপর বিশাল বাড়ি ছিল। সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ অসুস্থ থাকার সময় বর্ণিত বাড়ির ভাড়াটিয়া (প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা) প্রতারণা করে তার স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ি বিক্রির জাল দলিল তৈরী করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বড় বোন খালেদা রশীদ ঐ বিষয়টি সমাধান করার জন্য ২০০৫ সালে জনৈক জমির দালাল হাজী বেলাল হোসেন এর মধ্যস্থতায় অসুস্থ ভাইয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। যেহেতু  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ অসুস্থ ছিলেন, তাই তিনি পিতার সম্পত্তি উদ্ধারে কোন প্রত্যক্ষ ভ‚মিকা রাখতে পারেননি। বলাবাহুল্য, বৈরুতে বিমান দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকে  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিলেন; একারণে তিনি পরবর্তীতে কখনো কখনো গুছিয়ে কথা বলতে পারতেন না বা সবকথা বুঝতে পারতেন না। বলা যায় তিনি তখন হয়ে ওঠেন মানসিক প্রতিবন্ধি। উল্লেখ্য তার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমেদুজ্জামান ইকবাল জীবনের একপর্যায়ে  পুরোপুরি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন; ফলে তিনি আইনজীবি হয়েও কখনো প্র্যাকটিস করতে পারেননি। সৈয়দ আবদুস সুলতানের পরিবারে একজন মানসিক প্রতিবন্ধি রয়েছে; সমাজে লোকলজ্জার ভয়ে তারা কখনো ছোট ভাইকে চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত নিয়ে যাননি। ভাই সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের যখন এমনি অবস্থা, তখন বড় বোন সেই সুযোগ গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারে (দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের) অগোচরে ভাইয়ের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরে জানা যায়, তিনি তাদের পিতার সম্পত্তি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ কোন অর্থ তার ভাইকে দেননি; এমনকি ভাইয়ের চিকিৎসার জন্যও কোন অর্থ প্রদান করেননি। (চলবে)

%d bloggers like this: