নবাব সিরাজউদদৌলা’র বংশধর ঢাকায় !

alt

ভাগীরথী থেকে বুড়িগঙ্গা। মুর্শিদাবাদ থেকে ঢাকা। রাজকীয় হীরাঝিল প্রাসাদ থেকে ঢাকা শহরের এক ছোট্ট ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন নবাব সিরাজউদদৌলার নবম বংশধরেরা।

একদা বাংলা, বিহার, ওড়িশার আকাশ বাতাস কেঁপে উঠতো যাদের হুংকারে, ভাগিরথীর তীরে মুর্শিদাবাদ নগরে আলোকোজ্জ্বল মহল সর্বদা সরগরম থাকতো যে দাপুটে নবাবের পদচারণায়  সুবে বাংলার সেই শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদদৌলার বংশধরেরা এখন ঢাকা শহরে বসবাস করছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে, নীরবে নিভৃতে। অনেকেই তাদের খবর জানে না, অনেকেই খবর নেয় না।
নবাব সিরাজউদদৌলা বাঙালি ছিলেন না। বাঙালির আপন ছিলেন, বাঙালির দরদি ছিলেন। তিনি বাংলার ছিলেন না কিন্তু বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন। ভালবাসতেন বাংলাকে, বাঙালিকে। ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর প্রান্তরে সিরাজের পরাজয় এবং ২রা জুলাই ঘাতকের হাতে তার প্রাণ হারানোর মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায় বহুকালের জন্য। আমাদের এই ঢাকার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা হয়ে আছে নবাব পরিবারের দুর্দিন, দুঃসময়ের জীবন। সিরাজউদদৌলার মৃত্যুর পর তার প্রিয়তমা স্ত্রী লুৎফুননিসা, একমাত্র শিশু কন্যা উম্মে জোহরা, নানা আলীবর্দী খানের স্ত্রী আশরাফুন্নেসা সহ নবাব পরিবারের নারীদের ৮ বছর বন্দি করে রাখা হয়েছিল বুড়িগঙ্গা পাড়ের জিঞ্জিরা এলাকার একটি প্রাসাদে। স্থানীয় লোকজন ওই জরাজীর্ণ  প্রাসাদটিকে এখনও জানে ‘নাগরা’ নামে।
বর্তমানে ঢাকা শহরের খিলক্ষেত এলাকার লেকসিটি কনকর্ড-এর বৈকালী টাওয়ারে বসবাস করছেন নবাব সিরাজউদদৌলার নবম বংশধরেরা। তাদের একজন সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেবের সঙ্গে তার ফ্ল্যাটে বসে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি কাজ করেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে। বর্তমানে ড. ফজলুল হক সম্পাদিত সাপ্তাহিক পলাশী পত্রিকার সহ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। ওই বাসাতেই আছেন তার পিতা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম মোস্তাফা। তিনি নবাব সিরাজউদদৌলার ৮ম বংশধর। তার প্রয়াত স্ত্রী সৈয়দা হোসনেআরা বেগম ছিলেন নবাবের স্ত্রী লুৎফুননিসার রক্তের উত্তরাধিকার। এখানেই বাস করছেন তিনি এবং তার ২ ছেলে গোলাম আব্বাস আরেব ও ইমু এবং ২ কন্যা মাসুমা ও মুনমুন।
কিভাবে তারা নবাব সিরাজউদদৌলার বংশধর? বংশতালিকার সে হিসাব দিলেন গোলাম আব্বাস আরেব। ইরান থেকে ভাগ্য অন্বেষণে বাংলায় আসা নবাব আলীবর্দী খানের কোন ছেলে সন্তান ছিল না। তার ছিল ৩ কন্যা। ঘসেটি বেগম, ময়মুনা বেগম ও আমেনা বেগম। আলীবর্দী খানের বড় ভাই হাজী মির্জা আহমেদের ছিল ৩ পুত্র। মুহাম্মদ রেজা, মুহাম্মদ সাঈদ ও মুহাম্মদ জয়েনউদ্দিন। আলীবর্দী খানের ৩ কন্যাকে বিয়ে দেন তার ভাই হাজী আহমেদের ৩ পুত্রের সঙ্গে। মুহাম্মদ রেজার সঙ্গে বিয়ে দেন ঘসেটি বেগমের। মুহাম্মদ সাঈদের সঙ্গে ময়মুনা বেগমের এবং আমেনা বেগমের বিয়ে দেন জয়েনউদ্দিনের সঙ্গে। জয়েনউদ্দিন ও আমেনা বেগমের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। তাদের বড় সন্তান নবাব সিরাজউদদৌলা, অপর ২ ছেলে হচ্ছেন ইকরামউদদৌলা ও মির্জা মেহেদি। ২ কন্যা আসমাতুন নেসা ও খায়রুন নেসা। নবাব সিরাজউদদৌলা বিয়ে করেন ইরাজ খানের কন্যা লুৎফুননিসাকে। ইরাজ খানের পূর্বপুরুষরা ছিলেন মোঘল দরবারের কর্মকর্তা। সিরাজউদদৌলার একমাত্র কন্যা উম্মে জহুরা  বেগম। সিরাজউদদৌলার যখন মৃত্যু হয় তখন উম্মে জহুরা শিশু। সিরাজ কন্যা জহুরা বেগমের বিয়ে হয় সিরাজের ভাই একরামউদদৌলার পুত্র মুরাদউদদৌলার সঙ্গে। তাদের একমাত্র পুত্র শমসের আলী। তার পুত্র সৈয়দ লুৎফে আলী। তার কোন ছেলে সন্তান ছিল না। তার একমাত্র কন্যা ফাতেমা বেগম। ফাতেমা বেগমের ২ কন্যা হাসমত আরা বেগম ও লুৎফুননিসা বেগম। লুৎফুননিসা নিঃসন্তান। হাসমত আরার ছেলে সৈয়দ জাকির রেজা। তার ছেলে সৈয়দ গোলাম মর্তুজা। সৈয়দ গোলাম মর্তুজার ছেলে এই সৈয়দ গোলাম মোস্তফা।
২৩শে জুন পলাশীর প্রান্তরে পরাজয়ের পর ২৫শে জুন নবাব সিরাজউদদৌলা স্ত্রী লুৎফুননিসা ও শিশুকন্যা জহুরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে আবার সৈন্য সংগ্রহ করে বাংলা উদ্ধার করতে বিহারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে ভগবানগোলায় ক্ষুধার্ত নবাব পরিবার দানা শাহ নামের এক লোকের বাড়িতে খাদ্য গ্রহণ কালে ওই ব্যক্তি মুর্শিদাবাদে খবর দিয়ে ধরিয়ে দেন নবাব সিরাজউদদৌলাকে। সেখানে গিয়ে মীর জাফরের ছেলে মিরন গ্রেপ্তার করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসেন নবাবকে। বন্দি অবস্থায় ২রা জুলাই মোহাম্মদী বেগ হত্যা করে নবাব তাকে।
নবাবকে হত্যার পর তার স্ত্রী শিশুকন্যা সহ নানা আলীবর্দী খানের স্ত্রী আশরাফুন নেসাকে নৌকায় করে ভাগীরথীর তীর থেকে বুড়িগঙ্গার পাড়ে জিঞ্জিরার একটি প্রাসাদে তাদের আটকে রাখা হয় ৮ বছর। সেখান থেকে আবার তাদের মুর্শিদাবাদে নিয়ে মুক্ত করা হয়। নবাব সিরাজউদদৌলার মৃত্যুর পর থেকে তার ৫ম বংশধর পর্যন্ত কাউকে সরকারি কোন চাকরি দেয়নি বৃটিশ সরকার। নবাবের ৬ষ্ঠ বংশধর সৈয়দ জাকি রেজা ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর কাছে এসে ধরনা দিলে ১৯১৩ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর তিনি বৃটিশ সরকারের কাছে তাকে একটি চাকরি দেয়ার জন্য অনুরোধ করে চিঠি লেখেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় তিনি সিরাজউদদৌলার বংশধর। সে অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৃটিশ সরকার সৈয়দ জাকি রেজাকে মুর্শিদাবাদের ডেপুটি সাব-রেজিস্টার পদে নিয়োগ দেন। তার পুত্র সৈয়দ গোলাম মর্তুজা চাকরি করতেন মুর্শিদাবাদের কালেক্টরেট বিভাগে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় তিনি চলে আসেন পূর্ব পাকিস্তানে। প্রথমে আসেন রাজশাহীতে, রাজশাহী থেকে খুলনা শহরে একটি বাড়ি কিনে স্থায়ী হন। গোলাম মর্তুজার ছেলে সৈয়দ গোলাম মোস্তাফা পাকিস্তান আমলে চাকরি নেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে। তিনি এখন ছেলে সন্তান সহ বসবাস করছেন ঢাকা শহরে। তার বড় ছেলে সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব সমাজের গুণীজন, বিত্তবান সহ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা নবাব সিরাজউদদৌলার নামে একটি একাডেমী স্থাপন করতে চান। সে জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন।
ঢাকা শহরে বসবাস করা নবাব সিরাজউদদৌলার বংশধরদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে এখনও কি যেন এক ধরনের অজানা আতঙ্ক তাদের মাঝে। সম্ভবত সে আতঙ্ক থেকেই অন্তর্মুখী প্রচারবিমুখ হয়ে আছেন তারা। মিডিয়াকে এড়িয়ে চলেন, সমাজে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখেন। ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মীর জাফরের বংশধররা স্ব-স্ব পরিচয় দিয়ে দাপটে আছেন। জানা গেছে, তারা আছেন বাংলাদেশেও।

ইউকে বিডি নিউজ ডট কম

Advertisements

নান্দনিক বাংলাদেশ!

বাংলাদেশে বাজারে আসছে কৃত্রিম ডিম!

egg.jpg

এবার চীন থেকে বাংলাদেশের বাজারে আসছে কৃত্রিম ডিম। বিষয়টি অবিশ্বাস্য শোনালেও, সত্যি। ইতোমধ্যেই সামজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট, বস্নগ এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে উঠে এসেছে কৃত্রিম ডিম তৈরির ঘটনাটি। চীনে তৈরি এসব কৃত্রিম ডিম দেখতে হুবহু আমাদের দেশি হাঁস-মুরগির ডিমের মতো। খাওয়ার যোগ্য এসব ডিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট মর্নিং নিউজ এজেন্সি সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ইয়াঙ্গুনসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তের চোরাপথে চীন থেকে কৃত্রিম ডিম পাচার হয়ে আসছে। যা দেখতে অবিকল হাঁস মুরগির ডিমের মতো। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশসহ আশেপাশের দেশেও এই ডিম পাচার হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কিছুই জানেন না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ডিম ব্যবসয়াী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ যায়যায়দিনকে বলেন, ‘তিনি কৃত্রিম ডিমের বিষয়টি শুনেছেন। তবে বাংলাদেশের বাজারে এই ডিম চোরাই পথে আসছে কি না, এই বিষয়ে তার কিছু জানা নেই’। এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘চাইনিজ সেন্ট্রাল টেলিভিশন’ও কৃত্রিম ডিমের সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে। টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ‘২০০৪ সাল থেকেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম ডিম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি’তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে বিশ্লেষণধর্মী তথ্য প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম ডিমে কোনো খাদ্যগুন ও প্রোটিন নেই। বরং তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। কিভাবে তৈরি হয় কৃত্রিম ডিম ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত প্রস্তুতপ্রনালীতে দেখা যায়, কুসুম ও সাদা অংশের সমন্বয়ে কৃত্রিম ডিম তৈরি করতে প্লাস্টিকের ছাঁচ ব্যবহৃত হয়। তবে তার আগে কুসম তৈরি করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে। সরাসরি ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও কালারিং ডাই দিয়ে লাল বা গাঢ় হলুদ রংয়ের কুসুম তৈরি করা হয়। তার ওপর অতি পাতলা স্বচ্ছ রাসায়নিকের আবরণ তৈরি করা হয়। যাতে কুসুম ও সাদা অংশ এক না হয়ে যায়। সাদা অংশ তৈরিতে ব্যবহার হয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রিজিন জিলাটিন ও এলাম। প্লাস্টিকের ছঁচ ডিমের সাদা অংশ তৈরি করে তার মাঝখানে ডিমের কুসুম তৈরি করা হয়। শেষ ধাপে ডিমের উপরের শক্ত খোলস তৈরিতে করা হয়। এর জন্য ব্যবহার করা হয় ওয়াক্স এর মিশনখানে ব্যবহার করা হয় প্যারাফিন, বেনজয়িক এসিড, বেকিং পাউডার, ক্যালসিয়াম কার্বাইড। সাদা অংশকে ওয়াক্সের দ্রবণে কিছুক্ষণ নাড়ানো চাড়ানো হয়। বাইরে থেকে স্বল্প তাপ প্রয়োগ করা হয়। এতেই তৈরি হয়ে যায় হুবহু ডিমের মতো দেখতে একটি বস্তু। জানা গেছে, দেখতে একই রকম হলেও, আসল ডিম থেকে বেশ পার্থক্য রয়েছে কৃত্রিম ডিমের। কৃত্রিম অনেক বেশি ভঙ্গুর। অল্প চাপে ভেঙ্গে যায়। এ ডিম সিদ্ধ করলে এর কুসুম বর্ণহীন হয়ে যায়। ভাঙ্গার পর আসল ডিমের মতো কুসুম এক জায়গায় না থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত, আসল ডিমের, মতো স্থিতিস্থাপক ক্ষমতা না থাকার জন্য কুসুমের এ অবস্থা হয় বলে বিজ্ঞানীরা জানান। কৃত্রিম ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড় এবং এর খোলস মসৃণ। ইন্টারনেট থেকে আরো জানা যায়, চীনে তৈরী হওয়া এসব কৃত্রিম বা নকল ডিম এক কথায় বিষাক্ত। কৃত্রিম ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ ধরনের ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।

হ্যালো-টুডে ডটকম 

আসমানীকে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, বিএসএমএমইউ-তে যাও

asmanimthumbnail1.jpg

এস,এম,আশিক,হ্যালো-টুডে ডটকম: ‘আসমানীকে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিম উদ্দির ছোট্ট বাড়ী রসুলপুরে যাও।’ পল্লী কবির রচিত কবিতার প্রধান চরিত্র আসমানী বেগমকে এখন দেখতে গেলে রসুলপুরে পাওয়া যাবে না। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে  বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-ব্লকের বি-১১ নম্বরে চিকিৎসাধীন।গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে ফরিদপুর সদর হাসপাতাল পরে  ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এবং  গত বুধবার তাকে বিএসএমএমইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। আসমানী বেগম হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। আসমানী বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তিনি বর্তমানে কোন কথা বলতে পারেন না।

জসিম উদ্দীনের কবিতার মধ্য দিয়ে আসমানীর পরিবারের দারিদ্র্যতা ও ক্লিষ্টতা ফুটে ওঠে।

আসমানী

জসীম উদ্দীন

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক-খান হাড়,
সাক্ষী দিছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে দেছে দারুণ অভাব আসি।
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গা বরণের করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয় নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।
আসমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল্-বিল্-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে,
সেই জলেতে রান্না-খাওয়া আসমানীদের চলে।
পেটটি তাহার দুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।

চাঁদ সওদাগরের নৌকার সন্ধান!

chad.jpg

রাজশাহীর পুঠিয়ায় হোজা নদী সংস্কার ও খননের সময় প্রাচীনকালের একটি মালবাহী বিশাল নৌকার সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা এটি লোক কাহিনী খ্যাত কিংবদন্তির চাঁদ সওদাগরের নৌকা। তবে বিশেষজ্ঞরা এ ধারণায় সমর্থন দেননি। সন্ধান পাওয়া ওই নৌকা থেকে গত দুদিনে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর মাটির নিচে বিশাল আকৃতির নৌকা উদ্ধার ও মূল্যবান সম্পদ দেখতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ সমবেত হচ্ছে হোজা নদীরপাড়ে। উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জটিলতার মধ্যদিয়ে ভালুকগাছি ইউপি এলাকার পাঁচানিপাড়ায় হোজা নদীর ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃসংস্কার কাজ গত কয়েক দিন ধরে চলমান রয়েছে। পানিসম্পদ উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভালুকগাছি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি এ কাজ তদারকি করছে। ভালুকগাছি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আ. করিম জানান, গত বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ের উত্তর পাশে খাল খননের সময় দমদমা এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে মাটিকাটা শ্রমিক সাবি্বর ম-ল কিছু পিতলের তৈরি জিনিস পায়। এরপর থেকে সব শ্রমিকের মাঝে ‘গুপ্তধন’ পাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ‘গুপ্তধন উদ্ধারে’ এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ভালুকগাছি এলাকার প্রবীণ মোজাউল্লা ও মহির মির্জা জানান, এক সময় হোজা নদী দিয়ে চাঁদ সওদাগরসহ পুঠিয়া-তাহেরপুরের রাজ-রাজারা সফর করতেন। তাদের ধারণা, সে সময়ের খড়স্রোতা এ নদীপথে যাওয়ার সময় মালামালসহ বিশাল আকৃতির এই নৌকাটি এখানে ডুবে যায় এবং কালের আবর্তে সেটি মাটির নিচে চাপা পড়ে। কিংবদন্তি চরিত্র বেহুলা-লখিন্দরের পিতা ছিলেন চাঁদ সওদাগর। তাদের ধারণা, সন্ধান পাওয়া নৌকাটি চাঁদ সওদাগরের হতে পারে। এ ব্যাপারে জানতে রাজশাহী বিভাগের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী বলেন, সন্ধান পাওয়া নৌকাটি মধ্যযুগীয় কিংবদন্তি চরিত্র চাঁদ সওদাগরের হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এদিকে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাতে ভালুকগাছি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আ. জলিল সরকার ও খাল খনন শ্রমিক সর্দার বেলাল হোসেনসহ ২০-২৫ জন লোক নিয়ে রাতের অাঁধারে নৌকার বেশিরভাগ স্থান খনন করা হয়। তারা স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ লুটপাট করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। হোজা নদীতে গিয়ে দেখা গেছে, পুঠিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত উৎসাহী মানুষ নৌকা ও নৌকা থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল একনজর দেখার জন্য সেখানে ভিড় জামাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন আইনি জটিলতার আশঙ্কায় খাল শ্রমিক সর্দার বেলাল হোসেন তার লোকজন নিয়ে উদ্ধারকৃত নৌকাটি পুনরায় মাটিচাপা দিয়ে ফেলেন। এদিকে, খাল খনন শ্রমিক আবু কালাম, জাহাঙ্গীর আলম, আমীর হামজা, রফিকসহ অনেকেই জানান, নদীতে মাটিকাটার সময় নৌকার ভেতর থেকে তামা, কাসা ও পিতলের বিভিন্ন মালামাল বের হলে আমাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ভালুকগাছি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আ. জলিল সরকার জানান, গুপ্তধন নয়, নৌকার মধ্যে থেকে কিছু কাসার জিনিস পাওয়া গেছে সেগুলো শ্রমিকরাই নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) খাইরুল ইসলাম জানান, মূল্যবান সম্পদসহ নৌকার সন্ধানের বিষয়ে তার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই, এটা থানা পুলিশের ব্যাপার। কিংবদন্তি চরিত্র চাঁদ সওদাগর চাঁদ সওদাগর মনসামঙ্গল কাব্যধারার একটি কিংবদন্তি চরিত্র। তিনি ছিলেন প্রাচীন চম্পক নগরের একজন ধনী ও ক্ষমতাশালী বণিক। বিপ্রদাস পিপলাই তার মনসামঙ্গল কাব্যে উল্লেখ করেছেন, চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যতরী সপ্তগ্রাম ও গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত ত্রিবেণী হয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করত। চাঁদ সওদাগরের উপাখ্যানের সঙ্গে সর্পদেবী মনসার পূজা প্রচারের কাহিনী সমধিক পরিচিত। হিন্দু লোককথা অনুযায়ী, চাঁদ সওদাগর ছিলেন শিবের ভক্ত। মনসা চাঁদের পূজা কামনা করলে শিব ভক্ত চাঁদ তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। মনসা ছলনার আশ্রয় নিয়ে চাঁদের পূজা আদায় করার চেষ্টা করলে, চাঁদ শিবপ্রদত্ত ‘মহাজ্ঞান’ মন্ত্রবলে মনসার সব ছলনা ব্যর্থ করে দেন। তখন মনসা সুন্দরী নারীর ছদ্মবেশে চাঁদের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তার গুপ্তরহস্য জেনে নেন। এর ফলে চাঁদ মহাজ্ঞানের অলৌকিক রক্ষাকবচটি হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু এরপরেও চাঁদ সওদাগর তার বন্ধু শঙ্করের অলৌকিক ক্ষমতাবলে নিজেকে রক্ষা করতে থাকেন। শঙ্কর চাঁদের থেকেও অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ছিলেন। তাই ছলনা করে মনসা তাকে হত্যা করেন। এরপর চাঁদ যথার্থই অসহায় হয়ে পড়েন। এরপরেও চাঁদ মনসার পূজা করতে অস্বীকার করলে মনসা সর্পাঘাতে চাঁদের ছয় পুত্রের প্রাণনাশ করেন। ভগ্নহৃদয় চাঁদ এতে বাণিজ্যে যাওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু শত দুঃখকষ্টের মধ্যেও তিনি আবার বাণিজ্যে বের হন। সফল বাণিজ্যের পর তিনি যখন ধনসম্পদে জাহাজ পূর্ণ করে গৃহে প্রত্যাবর্তন করছেন, তখনই মনসা প্রচ- ঝড় তুলে তার বাণিজ্যতরী সমুদ্রে ডুবিয়ে দেন। চাঁদের সঙ্গীরা মারা গেলেও চাঁদ প্রাণে বেঁচে যান। চম্পক নগরে ফিরে এসে চাঁদ কোনোক্রমে নিজের জীবন পুনরায় সাজিয়ে তুলতে সক্ষম হন। তার লখিন্দর নামে একটি পুত্র জন্মে। এই লখিন্দর বিয়ে করেন বেহুলাকে। বেহুলা-লখিন্দরের বিয়ে, বাসর রাতে সর্পদংশনে লখিন্দরের মৃত্যু ও বেহুলার সাধনায় লখিন্দরের পুনর্জীবন লাভের কাহিনী এতদঞ্চলের জনপ্রিয় লোককাহিনীগুলোর অন্যতম। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া।

গ্রাহকের অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা নিচ্ছে ডাচ-বাংলা!

ঢাকা: গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল)। ব্যাংক হিসাবে সর্বনিম্ন জমার পরিমাণ বাড়িয়ে ব্যাংকের হিসাবধারীদের কাছ থেকে এই অর্থ তুলে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের হিসারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্থিতির পরিমাণ বাড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, সঞ্চয়ী হিসাবের ন্যূনতম জমা বা স্থিতি ৫০০ থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা এবং চলতি হিসাবের ন্যূনতম জমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়। আর এভাবেই ব্যাংক অতিরিক্ত এই অর্থ সংগ্রহ করবে। আগামী জুলাই মাস থেকে এই হার কার্যকর হচ্ছে।
জানা গেছে, চলমান তারল্য সংকট (নগদ মুদ্রার সংকট) থেকে কিছুটা রেহাই পেতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ডিবিবিএলের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার। আর শাখার সংখ্যা প্রায় ১২১। আর এটিএম বুথের সংখ্যা দুই হাজার ৭৯টি। সঞ্চয়ী এবং চলতি দুই ধরনের হিসাবের ক্ষেত্রে তারা মোট সাড়ে চার হাজার টাকা বাড়িয়েছে।
বাড়ানোর এই হার ধরে হিসাব করে দেখা গেছে, ডাচ-বাংলা তার গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারবে।
সম্প্রতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ন্যূনতম জমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি না করলেও এটিএম বুথগুলোতে এতথ্য বিজ্ঞাপন আকারে টানিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ব্যাংক এভাবে জমার হার বাড়াতে পারে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক রবিউল হাসান বাংলানিউজকে জানান, আর্থিক খাতের সংস্কারের আওতায় ব্যাংকগুলোকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরাই আমানত ও ঋণের সুদের হার, বিভিন্ন হিসাবে সুদ, স্থিতির পরিমাণ নির্ধারণ করে নিতে পারে। তবে তা একক কোনো গ্রাহকের জন্য নয়। আবার অস্বাভাবিকভাবেও নয়। অবশ্যই যোক্তিকভাবে এবং সার্কুলার জারি করে করতে হবে।
এদিকে ন্যুনতম জমার পরিমাণ এভাবে বড় অংকে বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে এব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর সৌজন্যে

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বিশ্ব নিরব কেন?

এএম জিয়া হাবীব আহসান

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সীমান্ত শহর মংডু ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে নৌকায় নৌকায় অসংখ্য অসহায় নারী শিশুরা ভাসছে। রক্তাক্ত জখম কিংবা গুলিবিদ্ধ, আহত ও ক্ষুধার্থ মানুষের আহাজারিতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ভারী হয়ে উঠেছে।
একদিকে নাসাকা বাহিনীর ধাওয়া অন্য দিকে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড ও কোস্ট গার্ডের পুশব্যাক প্রচেষ্টা, নাফ নদীর মাঝ পথে বয়ে যাচ্ছে এক করুণ মানবিক বিপর্যয়। মিয়ানমারের সরকারের নির্মুল নীতির শিকার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের হাজার হাজার ভিকটিম বিশ্ববিবেকের কাছে প্রশ্ন করছে আমরা কি মানব সন্তান নই? মানবাধিকারের এ চরম লংঘনের শিকার এ মানুষগুলোকে বাঁচাবে কে? তারাও মানুষ, আমাদের ভাই, বোন, সন্তান কিংবা মা, বাবার মতো।
বাংলাদেশ এমনিতেই জনসংখ্যার ভারে ন্যূব্জ। তার ওপর প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) এর ত্রাণ ও সাহায্য পেয়ে থাকলেও এ সমস্যা এ দেশের জন্য নানাভাবে বিরূপ প্রভাব রাখছে।

মিয়ানমারের অনীহা ও তাদের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এসব রিফিউজিদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ১৯৭৮ এর দিকে ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলামান এদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। ১৭টি ক্যাম্পে তাদের রাখা হয়েছিল। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তির মাধ্যমে তাদের সিংহভাগ ফেরত পাঠানো হয়। ১৯৯১ এবং ১৯৯৯ সালেও আরো রিফিউজি প্রবাহ দেখা যায়।

এ নৃশংসতা ও বর্বরতা আবারো শুরু হলো গত কিছুদিন ধরে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা উস্কে দেয় হয়। ফলে জীবন দিতে হচ্ছে নিরপরাধ বহু মানব সন্তানকে। আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ এ বলা হয়েছে রাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ চার্টারকে সম্মান দেখাবে। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এ বলা হয়েছে, যেকোনো ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতার অধিকারকে বঞ্চিত করা যাবে না যা আইনগত কোনো পদ্ধতি বা উপায় ব্যতীত।
এখানে Person (ব্যক্তি) এব Citizen (নাগরিক) শব্দগুলোর ব্যবহার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কে বাংলাদেশের নাগরিক, কে নাগরিক নয় তা বিবেচ্য নয়। বাংলাদেশ মূলত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমাদের একটি ট্রেডিশন (ঐতিহ্য) আছে। আমরা বিশ্ববাসীর মৌলিক মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখার পক্ষে কথা বলি। যদিও বাংলাদেশসহ এ উপমহাদেশের দেশগুলো ১৯৫১ সালের কনভেনশনের কোন পক্ষ ছিল না তবুও বাংলাদেশ রিফিউজিদের কোনো প্রকার সেল্টার দেয় না একথা ঠিক নয়। উপমহাদেশের অন্যান্য দেশ যেমন ভারত মুক্তিযুদ্ধে আমাদের এবং স্বাধীনতার পর ভারত বাংলাদেশের চাকমাদের, পাকিস্তান আফগান শরনার্থীদের এবং নেপাল ভুটানও আফগান শরণার্থীদের গ্রহণ করেছে। রিফিউজি ইস্যুর মূলত মারাত্নক অর্থনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাব  থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অতীতে রিফিউজিদের সহায়তা দেয়। এছাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ জন লোক Asylum গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ এশিয়ান-আফ্রিকান কনভেশন এর দ্বারা গৃহীত মূলনীতি সমূহকে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সংগত কারণে রোহিঙ্গাদের পুশ ব্যাক করলেও এখানে একটি মানবিক বিষয় এসে যায়। তা হলো এ অসহায় মানুষ ও নারী শিশুদের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৪(১) অনুযায়ী প্রত্যেকেরই নিগ্রহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অন্য দেশে আশ্রয় প্রার্থনা ও তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
যেহেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যা সমস্যা প্রকট সেহেতু এক্ষেত্রে বিশ্বসমাজের দায়িত্ব রয়েছে প্রচুর। আন্তর্জাতিক শরণার্থী রক্ষণা-বেক্ষণে ইউএনএইচসিআর এর বিকল্প পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। রোহিঙ্গাদের সকল প্রকার বৈষম্য থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে বিশ্ববিবেক-কে। কেননা তারা জাতিগত বিদ্ধেষের সুস্পষ্ট শিকার। মিয়ানমার তাদের অস্থিত্ব মেনে নিতে নারাজ, তারা সেখানে পদে পদে বঞ্চিত, অবহেলিত, নির্যাতিত, পদদলিত। হত-দরিদ্র অসহায় এসব বনি আদমের ওপর আরাকানে, বর্মী- সেনাবাহিনীর স্বাধীনতা পরবর্তী সশস্ত্র অপারেশন চালানো হয় প্রায় ১৪টি। গণতন্ত্রের মানসকন্যা নোবেল বিজয়ী অংসান সূচি’র দেশে এ ধরণের নৃশংসতা লজ্জাজনক যা পুরো মানবজাতির জন্য কলঙ্কজনক। মংডুতে মসজিদ ভেঙে ফায়ার ব্রিগেড বানানোর দৃশ্য দেখলেই বুঝা যায় তারা সেখানে কতো নিগৃহীত। চলতি সনের ২ মার্চ শুক্রবার ও শনিবার দু’দিন দিনব্যাপী মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করতে ১৩ সদস্যের একটি মানবাধিকার টিম মিয়ানমারের সীমান্তশহর মংডু সফর করে। এ সময় সেখানে রোহিঙ্গাদের সামাজিক অবস্থান দেখা গেছে অনেকটা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে। নিগৃহীত এ জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জানে না।
আরাকানে রোহিঙ্গা জনগোষ্টির নৃতাত্বিক ও ঐতিহাসিক পরিচয় দেখলে দেখা যাবে এদেশের মানুষের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের হৃদ্যতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক বিদ্যমান। এদেশের মানুষ বৃটিশ আমল থেকে ব্যবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে সেখানে বসবাস করতো।
মুরুব্বীদের থেকে শুনেছি ১৯৫৮ সালেও একবার রোহিঙ্গারা আরাকান থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ‘আকিয়াবের’ মগ-রা এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। আমাদের সীমান্তের দু’পারে বসবাসকারীদের মাঝে তাদের আত্মীয়তা রয়েছে। ফলে সেখানের কান্নার আওয়াজ এখানের বাতাসকেও ভারী করে। নাফ নদীর তীরে তীরে হাবুডুবু খাচ্ছে হাজার হাজার নির্যাতিত অসহায় রোহিঙ্গা মানবসন্তান। তারা এখন বন্ধুহীন। কে দাঁড়াবে তাদের পাশে? আমরা বলছি বাড়ি ফিরে যাও। কিন্তু তার পক্ষে সম্ভব হলে সে যেত। জীবন এবং স্বাধীনতা হারাবার ভয়ে দেশত্যাগী পলাতক এসব নারী-পুরুষ এবং শিশুদের রক্ষা করবে কে? জাতিসংঘের (UNHCR) দায়িত্ব হচ্ছে তাদের দৈহিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করা, তাদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ ও তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা। তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিধান করা। নিগ্রহ, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও জাতিগত প্রতিহিংসার দাবানল থেকে তাদের রক্ষা করা।

তাদের সাম্প্রতিক দুর্দশা আমাদের সময়ের বড় ধরণের শোকাবহ ঘটনাগুলোর একটি। মানবাধিকার লংঘনের এ ব্যাপারটি আমাদের প্রত্যেকের জন্য উদ্বেগজনক। তাদের প্রতি বিশ্ববাসীর দায়িত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দেশ বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের দায়িত্ব এক্ষেত্রে বেশি। জাতিগত নিধনের শিকার এ মানবগোষ্টিকে রক্ষা করা সময়ের দাবী। নাসাকার গুলিতে নারী ও শিশু নিহতের ঘটনা, নাফ নদীতে নৌকায় ১৫ দিন বয়সের শিশু ফেলে দেয়ার ঘটনা, আহতদের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু, তীব্র খাদ্যাভাব, নৌকায় হাজার হাজার নারী শিশুর মৃত্যুর প্রহর গুনার ঘটনা মানবিক বিপর্যয়ের সংবাদ বিশ্ব বিবেক কে কি নাড়া দেবে না? আসুন আমরা মানবতার প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসি।
এএম জিয়া হাবীব আহসান: আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী।

সৌজন্যে: বার্তা২৪ ডটনেট’

%d bloggers like this: