যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?- দ্বিতীয় পর্ব

পিতার সম্পত্তি গোপনে ও অবৈধভাবে বিক্রির পর, কাকতালীয়ভাবে সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের দ্বিতীয় স্ত্রী জানতে পারেন। এখানে বলে রাখা ভাল, খালেদা রশীদ যাদের দিয়ে সম্পত্তি বিক্রির দলিল লিখিয়ে ছিলেন, তাদের সাথে টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে গোলমাল হওয়ায় তারা সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের দ্বিতীয় স্ত্রী কুহেলী জামান এর কাছে বিক্রিত দলিলের নকল পৌঁছে দেন। ঐ দলিল নিয়ে কুহেলী জামান তার স্বামী সৈয়দ মাহামুদুজ্জামান ফিরোজসহ খালেদা রশীদের কাছে গেলে তিনি দলিলের বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
মৃত্যুর তিন মাস আগে সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ স্ত্রী কুহেলী জামানকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য পাওয়ার অব এটর্ণি প্রদান করলে, কুহেলী জামান ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় জিডি করে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। ইউনাইটেড গ্রুপ জমি বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতারণার বিষয় অবগত নয় বলে জানান। তবে সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজের মৃত্যুর দিনে মানবিক কারণে ইউনাইটেড গ্রুপ কুহেলী জামানের কাছে সহায়তা হিসেবে কিছু টাকা প্রেরণ করে; যা দিয়ে কুহেলী জামান হাসপাতালে বিশাল অংকের বিল পরিশোধ করতে পেরেছিলেন। হাসপাতালে অবস্থানকালে (কোমায়- লাইফ সাপোর্ট দেয়া অবস্থায়) বোন খালেদা রশীদ ভাইয়ের অসুস্থাতার জন্য কোন প্রকারের সহানুভূতি দেখাননি বা আর্থিক সহায়তা করেননি। উল্লেখ্য সৈয়দ আবদুস সুলতানের গুলশানের সেই জমিতে এখন ইউনাইটেড গ্রুপের বহতল বিশিষ্ট বিশাল ভবন নির্মিত হচ্ছে।
এভাবেই সৈয়দ আবদুস সুলতানের একমাত্র জীবিত পুত্রের উত্তরাধীকারীদের ( দুই স্ত্রীর মোট ৬ সন্তান) পিতা ও দাদার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন খালেদা রশীদ। এখানেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। পরিবারের অর্থ এককভাবে আত্মসাৎ করার প্রক্রিয়া তিনি এরপরেও চালিয়ে যেতে থাকেন।
সৈয়দ আবদুস সুলতানের স্ত্রী কুলসুম সুলতান, যিনি পেশায় ছিলেন একজন আইনজীবি এবং আইন কলেজের শিক্ষক; তিনি স্বীয় স্বামীর সম্পত্তির অংশ হিসেবে পয়তাল্লিশ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার পেয়েছিলেন; যা কিনা প্রদান করেছিলেন বর্ণিত জমির প্রথম ক্রেতা হাজী বেলাল হোসেন। সেই পে-অর্ডার মায়ের ব্যাংক একাউন্টে জমা না দিয়ে খালেদা রশীদ ইতিপূর্বে মায়ের সাথে তার করা যৌথ একাইন্টে জমা করে আত্মসাতের পথ প্রশস্থ করেন। বর্ণিত যৌথ একাউন্টটি ছিল সোনালী ব্যাংক উত্তরা শাখায়। ভাই সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজের মৃত্যুর পরে কুলখানির দিন খালেদা রশীদ মায়ের অংশের টাকা যৌথ একাউন্টে জমা দেবার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান যে, মায়ের অংশের টাকা তখনও পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে কুলখানীতে তিনি খরচের অংশ দিতে পারতেন।
পরে কুহেলী জামান সোনালী ব্যাংক উত্তরা শাখায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, খালেদা রশীদ বর্ণিত একাউন্ট থেকে ৪২ লক্ষ টাকা একক স্বাক্ষরে তুলে নিয়েছেন; অথচ ততদিনে যৌথ স্বাক্ষর প্রদানকারীর অন্যজন, তার মা গত হয়েছেন। এই টাকার অংশ নিয়মানুসারে সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর পাওয়ার কথা। তার মৃত্যুর পর ঐ টাকার আইনত অংশীদার সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দুই সংসারের ছয় সন্তান। খালেদা রশীদ সকলকেই বঞ্চিত করে এককভাবে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন। এখানেই শেষ নয়,২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ছোট ভাই সৈয়দ আহমেদুজ্জামান ইকবালের মৃত্যুর পর মায়ের দেখাশোনার নাম করে মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে ডাক্তার দেখানোর নামে ভাড়াটে ফ্ল্যাট থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন খালেদা রশীদ। সে সময়ে খালেদা রশীদ তার মায়ের ফ্ল্যাটের যাবতীয় আসবাবপত্র ও স্বর্ণালঙ্কার খালেদা রশীদ কাউকে না জানিয়ে এককভাবে নিয়ে যান।
সম্প্রতি জানা গেছে, সৈয়দ আবদুস সুলতানের স্ত্রী কুলসুম সুলতানের পৈত্রিক সম্পত্তি (যা ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত), যার আইনত অংশীদার সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দুই সংসারের ছয় সন্তান এবং খালেদা রশীদ; সেটিও খালেদা রশীদ এককভাবে দখল করে আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছেন। খালেদা রশীদ পিতার সম্পত্তি বিক্রির টাকা এবং মায়ের টাকা এককভাবে আত্মসাৎ করে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজীর কাছাকাছি জায়গায় খালেদা রশীদ এডুকেয়ার নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা গেছে।
সৈয়দ আবদুস সুলতানের পুত্র সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর প্রথম স্ত্রী ডা. হোসনে আরা শিরিন গত রমাজান মাসে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার দুই পুত্র বর্তমানে ইংল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন। একমাত্র কন্যা পুরান ঢাকায় স্বামী-সন্তানসহ বাস করছেন। সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দ্বিতীয় স্ত্রী কুহেলী জামান, যার কাছেই সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ জীবনের শেষ দিনগুলিতে কাটিয়েছেন এবং তার কাছে মৃত্যুবরণ করেছেন; তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা নিয়ে ২০০৩ সাল থেকে পিতার আশ্রয়ে রয়েছেন (স্বামীও আমৃত্যু সেখানেই ছিলেন)। অর্থাভাবে ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া ও ভরণ-পোশন করতে তাঁর জীবন ওষ্ঠাগত। পিতা-পিতামহ ও পিতামহীর সম্পত্তির ওয়ারিশ সূত্রে যে অংশের দাবীদার, যাতে করে কুহেলী জামান এর সন্তানগণ, সেইটুকু পেতে পারে; সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন সৈয়দ মাহামুদুজ্জামন ফিরোজ এর দ্বিতীয় স্ত্রী কুহেলী জামান।

যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?

যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাই কমিশনার এস. এ. সুলতানেরউত্তরসূরীরা কেমন আছেন?

শারদীয়া রিপোর্ট: সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাজ্যে প্রথম হাইকমিশনার হিসেবে ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল নিয়োগ প্রদান করেছিলেন ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহচর সৈয়দ আব্দুস সুলতান (এস এ সুলতান) কে। ময়মনসিংহের প্রখ্যাত সৈয়দ পরিবারের সন্তান সৈয়দ আবদুস সুলতান ছিলেন একনিষ্টভাবে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী এবং রক্তেমাংশে আওয়ামী লীগার। যুক্তরাজ্যের মত একটি দেশ- যেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে মূল প্রচারণার কাজ চলেছিল, সেখানে সদ্য স্বাধীন দেশের মুখপাত্র হিসেবে সৈয়দ আবদুস সুলতানের নিয়োগ প্রমান করে তিনি বঙ্গবন্ধুর কতটা কাছের এবং প্রিয় ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়াণের পর সৈয়দ আবদুস সুলতানের খবর আর কেউ রাখেনি। এমনি এক সৈয়দ আবদুস সুলতানের উত্তরাধিকারীগণ পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে কেমন আছেন, কোথায় আছেন- সে বিষয়ে পরবর্তীতের রাষ্ট্র আর কোন খোঁজ-খবর রাখেনি। এই ঢাকা মহানগরীতেই সৈয়দ আবদুস সুলতানের বংশধরগণ রয়েছেন এবং এক প্রকার মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বলে রাখা ভাল সুসাহিত্যিক, প্রখাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবদুস সুলতান ছিলেন দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর জীবদ্দশাতেই ছোট কন্যা হাসিনা খাতুন ১৯৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।  সৈয়দ আবদুস সুলতানের ছোট পুত্র অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদুজ্জামান ইকবাল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন অকৃতদার। বড় পুত্র যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ পেশায় ছিলেন শিক্ষক। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ক্যামব্রিজ থেকে একবার বৈরুতে যাবার সময় বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হলে  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী ডা. হোসনে আরা শিরিন এর সংসারে দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। তিনি ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করার পর এ সংসারেও দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি শ্বশুর বাড়িতে (দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বাড়িতে) আশ্রিত ছিলেন এবং সেখানেই ১৯৯৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর ২০০৩ সালে প্যারালাইসড হয়ে শয্যাশায়ী হন। সেখানেই তিনি ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন।

সৈয়দ আবদুস সুলতানের বড় কন্যা খালেদা রশীদ তাঁর প্রথম স্বামীর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দ্বিতীয় স্বমী ডা. রশীদের সংসারে গেলে সেখানেও একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ডা. রশীদ ছিলে সজ্জন মানুষ, তাঁর জীবদ্দশায় খালেদাকে বাবার (তার শ্বশুরের) সম্পত্তি নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে বাঁধা দিয়ে বলেছিলেন, “তোমাকে আমি সব করে দিয়েছি, তোমার বাবার সম্পত্তি তোমার ভাইয়েরা ভোগ করুক।” স্বামী বেঁচে থাকতে খালেদা যা করতে পারেননি, তার মৃত্যুর পর কোটিপতি খালেদার মনে পুষে রাখা লোভ ও ঈর্ষার আগুনে পুড়ল ছোট ভাইয়ের এতিম সন্তানরা।

সৈয়দ আবদুস সুলতানের বড় পুত্র সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের প্রথম স্ত্রীর সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে তার সাথে সংসার করতে থাকেন। সৈয়দ আবদুস সুলতানের গুলশান ১ নং অ্যাভিনিউ রোডে এক বিঘার ওপর বিশাল বাড়ি ছিল। সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ অসুস্থ থাকার সময় বর্ণিত বাড়ির ভাড়াটিয়া (প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা) প্রতারণা করে তার স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ি বিক্রির জাল দলিল তৈরী করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে বড় বোন খালেদা রশীদ ঐ বিষয়টি সমাধান করার জন্য ২০০৫ সালে জনৈক জমির দালাল হাজী বেলাল হোসেন এর মধ্যস্থতায় অসুস্থ ভাইয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। যেহেতু  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ অসুস্থ ছিলেন, তাই তিনি পিতার সম্পত্তি উদ্ধারে কোন প্রত্যক্ষ ভ‚মিকা রাখতে পারেননি। বলাবাহুল্য, বৈরুতে বিমান দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকে  সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজ কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিলেন; একারণে তিনি পরবর্তীতে কখনো কখনো গুছিয়ে কথা বলতে পারতেন না বা সবকথা বুঝতে পারতেন না। বলা যায় তিনি তখন হয়ে ওঠেন মানসিক প্রতিবন্ধি। উল্লেখ্য তার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমেদুজ্জামান ইকবাল জীবনের একপর্যায়ে  পুরোপুরি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন; ফলে তিনি আইনজীবি হয়েও কখনো প্র্যাকটিস করতে পারেননি। সৈয়দ আবদুস সুলতানের পরিবারে একজন মানসিক প্রতিবন্ধি রয়েছে; সমাজে লোকলজ্জার ভয়ে তারা কখনো ছোট ভাইকে চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত নিয়ে যাননি। ভাই সৈয়দ মাহমুদুজ্জামান ফিরোজের যখন এমনি অবস্থা, তখন বড় বোন সেই সুযোগ গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারে (দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের) অগোচরে ভাইয়ের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরে জানা যায়, তিনি তাদের পিতার সম্পত্তি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ কোন অর্থ তার ভাইকে দেননি; এমনকি ভাইয়ের চিকিৎসার জন্যও কোন অর্থ প্রদান করেননি। (চলবে)

কোন্ পথে চলেছে দেশ?

নুরুল্লাহ মাসুম

গত সপ্তাহজুড়ে দেশের অবস্থা দেখে সাধারণের মনে প্রশ্ন জাগছে, কোন্ পথে চলেছে দেশ? যে কোন গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে বিরোধী দল নিজ নিজ কর্মসূচী নিয়ে র্নিবাচনী প্রচারণায় নামবে, সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে ভোটারের মন কাড়বে- এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশ যেন একটু ব্যাতিক্রমী দেশ। এখানে সরকার পরিবর্তনে গণতান্ত্রিক ধারা চলছে দু’দশকেরও বেশী সময় ধরে। তবে কোন পরিবর্তনই রক্তপাতহীন হয়নি। হরতাল যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার তেমনি হরতাল না মানাও জনগণের স্বীয় এখতিয়ারভুক্ত। তবে আমাদের দেশে জনগণের সেই অধিকারটুকু হরণ করেছে বিরোধী দল গুলো। ফলে প্রতিটি হরতালেই জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি একেবারেই যেন মামুলী ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।
ক্ষমতাশীন মহাজোট সরকার হাইকোর্টের আদেশের কিয়দংশ মেনে যেদিন সংবিধান পরিবর্তন করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়, সেদিন থেকেই বিরোধী জোট একটা মওকা পেয়ে যায়। সরকার বিরোধী আন্দোলনে সংবিধান পরিবর্তন যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেবার মত হয়ে উঠল। সাথে যুক্ত হয় মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার। সরকারী দল ও জোট শুরু থেকেই বলে আসছে, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার বানচালের জন্য বিরোধী দল এ আন্দোলন করছে।মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী নামক দলটিতো এর বিরোধিতা করবেই। অবাক হতে হয়, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যখন ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ’ এর বিচার চাইলেও এ সংক্রান্ত ট্রাইবুনালের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর বিরোধিতা করে এবং যুদ্ধাপরাধী জামাতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে; ক্ষেত্র বিশেষে জ্বালাও পোড়াও জাতীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়। মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচারের রায় প্রদানের দিন থেকে জামায়াত ধংসাত্মক কার্যক্রম করে যাচ্ছে, এর বলি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। এ নিয়েও রাজনীতি কম হয়নি। দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি- মূলত তাদের উদ্যোগেই শুরু হয় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। প্রগতিশীল সকল মানুষসহ সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি আস্থাশীল হয়ে দলে দলে সমবেত হয় শাহবাগে। দেশের প্রতিটি জেলায়ও গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে ওঠে। সরকারও তাদের প্রতি সহানুভুতিশীল ছিল প্রথম থেকেই। গণজাগরণ মঞ্চের দাবীর মুখেই সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয় দ্রুততার সাথে। সেদিন থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম শিথিল করার ঘোষণা আসে। বিষ্ময়কর ঘটনা ঘটে সে রাতেই। গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম শিথিল করার ঘোষণা দেবার দুই ঘন্টার মধ্যে এক ব্লগার- রাজীবকে নির্মমভাবে হত্যার করার মধ্য দিয়ে। চলতে থাকে গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম। এরই মধ্যে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তারা শাহবাগের তরুণদের ঢালাওভাবে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিরোধে মাঠে নামে। ফলে গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামে তাদের নির্ধারিত সমাবেশ করতে পারেনি। সরকারের ভাষ্যানুযায়ী সংঘর্ষ এড়াতে নির্ধারিত দিনে ১৪৪ ধারা জারি করে সকল ধরণের সমাবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিএনপি গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সাত দিনের মাথায় একটা সতর্ক অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে হেফাজতের নাস্তিক ঠেকাও আন্দোলনে সহযোগী হয়ে ওঠে। ঢাকায় হেফাজতের বিশাল সমাবেশ হওয়ার পরে তাদের কর্মোদ্যগ বেড়ে যায়। ৫ মে তারা ঢাকা অবরোধের ঘোষণা দেয়। প্রথম দফায় মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি হেফাজতের পাশে থাকে প্রকাশ্যে। বিএনপিও সে সময়ে তাদের সমাবেশে গিয়ে সমর্থন জানায়। হেফাজত ১৩ দফা দাবী নিয়ে ৫ মে’র কর্মসূচী ঘোষণা করে। যে ১৩টি দফা তাদের রয়েছে, সকলেই তা ইসলামী বললেও তাদের সেই দাবীগুলোর মধ্যে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিষয়ে কোন কথা না থাকায়, ¯^ভাবতই প্রশ্ন থেকে যায়, তারা কি জামায়াতের বি-টিম হিসেবে মাঠে নেমেছে? কোন কোন মিডিয়া খবর দেয়, হেফাজতের অনেক নেতাই এক সময়ে জামায়াতের ছাত্র ফ্রন্ট শিবিরের সক্রিয় নেতা বা কর্মী ছিলেন। এক পর্যায়ে সাধারণের মনেও প্রশ্ন জাগে আসলেই কি হেফাজত ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মাঠে নেমেছে, না কি জামায়াতের কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করছে?
বাস্তবতার নীরিখে হেফাজতের ১৩ দফা দাবী বর্তমান সরকার কেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও মানতে পারতো না বলেই প্রতীয়মান হয়। বিশেষত নারীর ক্ষমতায়নের বিরোধিতার বিষয়টি সামনে  চলে আসে। নারী সংগঠনগুলো ভীষণভাবে এর প্রতিবাদ জানায়। অন্যদিকে হেফাজত যেহেতু শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা দিয়েই তাদের উপস্থিতি দেশব্যাপী তুলে ধরে,গণজাগরণ মঞ্চও হেফাজত ঠেকাবার কথা বলে সংগঠিত হয় নতুন করে- নবোদ্যমে।
এমনি এক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যখন দেশ চলছে, ঠিক সে সময়ে ঘটে দেশের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়- সাভারের রানা প্লাজা নামের একটি নয় তলা ভবন ধসের ঘটনা। দেশর সবচেয়ে বড় এ দুর্ঘটনায় সকল স্তরের মানুষ এগিয়ে আসে উদ্ধার কার্যে। বহুদিন বাদে দেশ দেখতে পায়, দলমত নির্বিশেষে সকলের সহমর্মিতা।সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান- সকলেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় মানবতার সেবায়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ¯ে^াচ্ছাসেবী উদ্ধাকারীদের কথা বাংলাদেশ মনে রাখবে বহুদিন। ¯ে^চ্ছাসেবী উদ্ধারকারীদের জীবনদানও হয়ে থাকবে চির উজ্জল। দুর্ঘটনার দিনে চলছিল বিএনপি তথা ১৮ দলীয় বিরোধী জোটের হরতাল। দেরিতে হলেও সেদিন তারা ঐ এলাকায় হরতাল শিথিল করে; যদিবা সকলেই আশা করেছিল সারা দেশে হরতাল প্রত্যাহার করা হবে। পরে উদ্ধার কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানোর স্বার্থে বিএনপি’র হরতাল প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপি জনগণের কাছে বাহবা পায়। আমরাও তাদের সাধুবাদ জানাই। তেমনি পরিস্থিতিতে হেফাজত বলে ‘সাভারের দুর্ঘটনা আল্লাহর গজব’ এবং ৫ মে’র ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী বহাল রাখে- এই না হলে ইসলাম কায়েম করা যায়! এই না হলে ইসলামী সংগঠন!
নির্ধারিত দিনে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ ঠিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ করেই তারা শাপলা চত্ত¡রে সমাবেশের ঘোষণা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের অনুমতিও দেয় সকলকে অবাক করে দিয়ে। এটাই হয়ে ওঠে কাল। সমাবেশ শুরু থেকেই দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে পুলিশের সাথে এবং তারা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ দখলের প্রচেষ্টা চালায়, যদিও তা সফল হয়নি।
ঢাকা অবরোধ শেষে শাপলা চত্ত¡রের সমাবেশ থেকে হেফাজতিদের যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধীদের মুক্তির দাবী সম্বলিত স্লোগান তাদের অবস্থানকে পরিস্কার করে দেয়। পুলিশের ভাষ্যমতে হেফাজতের সমাবেশ বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তারা সেখানে অবস্থান করতে থাকে এবং তাদের ১৩ দফা না মানা পর্যন্ত শাপলা চত্ত্বর ছাড়বে না বলে ঘোষণা দেয়। বিকেল নাগাদ হেফাজতের সমাবেশ হয়ে ওঠে ধংসাত্মক। আগুন দেয়া হয় বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে, এমনকি তাদের আগুনের হাত থেকে রেহাই পায়নি পবিত্র কোরআন শরীফও। বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত বহু ইসলামী বইয়ের দোকানে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় হাজার হাজার কোরআন শরীফ ও অন্যান্য ইসলামী বই। ফুটপাতের হাজারো হকারের দোকান পুড়ে মাটিতে মিশে যায়। রেহাই পায়নি ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোও। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললেও তারা সে আদেশ মানেনি। ফলে গভীর রাতে সরকারের নির্দেশে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের শাপলা চত্ত¡ থেকে বিতারিত করে। পরদিন সকালে দেখা যায় মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার ধংসযজ্ঞ। ক্ষতির পরিমান নিয়ে নানান মিডিয়াতে নানান কথা বলা হয়েও প্রকৃত ক্ষতির পরিমান জানতে আরো সময় লাগবে।
ইসলাম শান্তির ধর্ম। সেই ইসলামের নামে হেফাজতের ধংসাত্মক কার্যক্রম কারো পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। দেশের জন্য এ জাতীয় কার্যক্রম মোটেও কল্যাণকর নয়। হেফাজতের মহাসচিব পুলিশ হেফাজতে আছেন, ক্রমেই জানা যাবে তাদের মাঠে নামার প্রকৃত উদ্দেশ্য। হেফাজত যে বিএপি-জামায়াতের পক্ষে কাজ করছিল তা বোঝা যায় হেফাজত নেতা বাবুনগরীর বক্তব্যে। পুলিশের কাছে তার স্বীকারোক্তির কথা সকল মিডিয়া প্রচার করেছে।
এমনিতে সাভার দুর্ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ স্বীয় অবস্থান ধরে রাখার সংকটে রয়েছে। এর ওপর হরতাল-অবরোধ নানাবিধ কারণে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থাও ক্রমে অবনতি ঘটছে। আমাদের প্রশ্ন, এমনি ক্ষয়-ক্ষতির মধ্য দিয়ে আরেকটি নির্বাচন শেষে মহাজোট, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বা জাতীয় পার্টি- যেই দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা কি পারবে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে? পরিস্কার উত্তর হচ্ছে- না। তখন তারা জনগণের মাথার ওপর ট্যাক্সের বোঝা বাড়িয়ে দেশ চালাতে চাইবেন; যা হবে জনগণের জন্য কঠিন এক শাস্তি।
অব্যাহত অচলাবস্থা যে কোন দেশের জন্যই সুখকর নয়। যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় আরোহনের প্রচেষ্টা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্যই ক্ষতিকারক। দেশের অর্থনীতি যদি ভেঙ্গে পড়ে, ক্ষমতায় গিয়ে তারা কি করবে? প্রধান দলগুলো নেতৃস্থানীয় যারা রয়েছেন, তারা কি এটা বোঝেন না? না বোঝার কথাতো নয়। তবে কি দেশের আপামর জনসাধারণ ধরে  নেবে বা ভাববে, তারা জেনে হোক বা না জেনে হোক- ভিন্ন কোন দেশ বা এজেন্সীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন? নইলে একের পর এক দেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকান্ডে তারা সম্পৃক্ত হচ্ছেন কেন? এমন কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন কেন, যা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না?
মুখে গণতন্ত্রের কথা বলবেন, কথায় কথায় পশ্চিমা গণতন্ত্রের উদাহরণ টানবেন;অথচ তাদের গণতন্ত্র চর্চার পথ অনুসরণ করবেন না, তাহলে গণতন্ত্র বাঁচবে কেমন করে? রাজিৈনতক দলগুলোর কাছে দেশের জনগণ কি আশা করতে পারেন না যে,তারা প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা করে দেশের কথা ভাববেন! বিরোধী দলে থেকেও তো দেশ সোব করা যায়। সরকারের কাছেও জনগণের প্রত্যাশা ক্ষমতায় গিয়ে যেন তার না ভাবেন, এ ক্ষমতা চিরদিনের জন্য তাদের হয়ে গেল। জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় বসায় পাঁচ বছরের জন্য; সুতরাং তাদের কথা ভাবুন, দেশের কথা ভাবুন। তবেই হয়ত বাংলাদেশ অর্থনীতির ক্ষেত্রে কাগুজে বাঘ থেকে সত্যিকার অর্থে অর্থনীতিতে সফলতার মুখ দেখবে।

টুডে ব্লগঃ মে দিবস পালন এখন ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে

টুডে ব্লগঃ মে দিবস পালন এখন ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে.

পুরনো হবে না কিশোর কুমারের গান

ঢাকা: যুগের পর যুগ পেরিয়ে যাবে, তবু এতটুকু পুরনো হবে না কিশোর কুমারের গান। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এ কণ্ঠশিল্পীর অভিনেতা হিসেবেও যথেষ্ঠ সুনাম রয়েছে।

শনিবার কালজয়ী এই শিল্পীর ৮৪ তম জন্মদিন।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়াতের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে কিশোর কুমার শৈশবে বড় ভাই অশোক কুমারের হিন্দি চলচ্চিত্রের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হন। বিখ্যাত গায়ক কুন্দন লাল সায়গল গানেও দারুনভাবে প্রভাবিত হন কিশোর। বিখ্যাত শিল্পী মোহাম্মদ রফি ও মুকেশের জনপ্রিয়তার যুগে কিশোর কুমার ভিন্ন ধাচে গান গেয়ে সবার দৃষ্টি কাড়েন।
হিন্দির পাশাপাশি কিশোর কুমারের গাওয়া বাংলা সিনেমার গানসহ বাংলা আধুনিক গান গেয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্য তাঁর প্লেব্যাক করা ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাজকুমারী, অমানুষ, আনন্দ আশ্রম, ওগো বধূ সুন্দরী প্রভৃতি।

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা চারুলতা ও ঘরে বাইরের জন্য তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়েছেন। ক্যারিয়ারের শেষদিকে কিশোর কুমার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম রেকর্ড করেন।

হিন্দি ফিল্মি গানের জগতে কিশোর কুমারের প্রভাব হালআমলেও ব্যাপক। এই সময়ের প্রতিষ্ঠিত গায়কদের মধ্যে কুমার শানু, অভিজিৎ, বাবুল সুপ্রিয়, অমিত কুমারসহ সকলেই ক্যারিয়ারের শুরুতে কিশোরের গায়কি অনুকরণ করে গেয়েছেন।

কিশোর কুমার আটবার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ গায়কের পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর কিংবদন্তি এই শিল্পী প্রয়াত হন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বেহাল সড়ক: বিব্রত মন্ত্রী

সড়কটি খানাখন্দে ভরা। রাস্তায় হেলে-দুলে চলে যানবাহন। যাত্রীদেরও মনে হয়, এই বুঝি উল্টে গেল গাড়িটি! বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট-কালুরঘাট সড়কের এ দুরবস্থা। কোনো উন্নতি নেই। তাই যাত্রীরা দোয়া-দরুদ পড়েই গাড়িতে ওঠেন।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু, সেটি সংস্কার না হওয়ায় রাগে-দুঃখে প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার সড়কের চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুর পাড় অংশে ধান রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেন তারা।
সড়কটিতে টানা দু`ঘণ্টা ধানের চারা লাগান এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা! এমন অভিনব প্রতিবাদ অবশ্য পৌঁছেছে যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কানেও। এ রকম অভিনব প্রতিবাদসহ নানাভাবে, নানা মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সড়কের করুণ অবস্থার খবর মন্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই দেখছেন, শুনছেন। গত একমাস ধরে সড়ক পরিদর্শনের কাজে যেখানেই মন্ত্রী যাচ্ছেন, সেখানেই বেহাল সড়ক দেখে হতবাক হচ্ছেন। জনসাধারণের বিভিন্ন প্রশ্নে বিব্রত হচ্ছেন।
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়াজুড়ে বেশিরভাগ রাস্তার অবস্থাই এখন খারাপ। যোগাযোগমন্ত্রী বিভিন্ন মহাসড়ক পরিদর্শন করে দেখেছেন, বৃষ্টি হলেই মহাসড়কে পানি জমছে। পরে আবার খানাখন্দ মেরামত হয় ইট আর মাটি দিয়ে। গত সপ্তাহে যোগাযোগমন্ত্রী কাঁচপুর ব্রিজ পরিদর্শনে গেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মন্ত্রীর গাড়ি এদিক ওদিক দুলতে থাকে, প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিতে থাকে।

গাড়ির ভেতর থেকেই মন্ত্রী দেখেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বাস খাদে পড়ে গেছে। অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা পেছন থেকে ঠেলেও সামনে নিতে পারছেন না। পরিদর্শনের একপর্যায়ে গাড়ি থেকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে সড়কের অবস্থা দেখেন ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী দেখতে পান, এবড়ো-খেবড়ো সড়ক। কাদা পানিতে একাকার। ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো ব্যস্ত এ মহাসড়কেরও কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি জমে জলাশয় হয়ে গেছে। একপাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী দেখেন, এ সড়কে কাদামাটির কারণে পা ফেলার মতো অবস্থাও নেই। গর্তের কারণে রাস্তায় পানি জমায় মানুষ লাফ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন।
এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখার সময় এলাকার অসংখ্য মানুষ মন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন। ক্ষোভে এলাকার এক বাসিন্দা মন্ত্রীকে জানান, ‘‘এ সড়কে গাড়িত উঠলে দোয়া-দরুদ পড়তে হয় আর পায়ে হেঁটে গেলে জুতা খুলে হাঁটতে হয়। কারণ, পুরো রাস্তা জুড়েই কাদামাটি। আর একটুখানি বৃষ্টি হলেই হাঁটুজল জমে যায় সড়কটিতে।’’
এলাকার বাসিন্দারা মন্ত্রীকে আরো জানান, বছরের পর বছর এ সড়কের নাজুক অবস্থা বিরাজ করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মন্ত্রী জনসাধারণের কথা শোনার পর বললেন, ‘‘রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে নয়। এটা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) আওতাভুক্ত। আমার এখানে করার কিছু নেই।’’
ডিসিসি’র আওতাভুক্ত এ সড়ক সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জিল্লার রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘সমস্যাতো শুধুই ডিসিসি’র আওতাভুক্ত সড়কে নয়। তবে ডিসিসি’র আওতাভুক্ত যেসব সড়ক রয়েছে সেগুলোর দ্রুত সংস্কার করা হবে।’’
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী। এর ফলে ওয়ারী, গুলিস্তান, নারিন্দা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, নারিন্দা, স্বামীবাগ, গোলাপবাগ, দয়াগঞ্জসহ রাজধানীর একটি বড় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ তীব্র দুর্ভোগের শিকার। একই কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছে এসব এলাকায় চলাচলকারী শত শত যানবাহন। শুধু এসব সড়ক নয়, সারা দেশের বিভিন্ন সড়কের অবস্থাই করুণ।
যোগাযোগ করা হলে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘আমার মেয়াদ অল্প। অল্প সময়ে যতোটুকু দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা দরকার, তা করতে চেষ্টা করছি। রাতারাতি সড়কের পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ, আমার হাতেতো ম্যাজিক নেই।’’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘সব সড়কের করুণ অবস্থার দায়ভার সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নিতে পারে না। সওজের আওতাভুক্ত যেসব সড়ক আছে সেগুলো যাতে যান চলাচলের উপযোগী হয়, তার জন্য আমরা কাজ করছি।’’
সব সড়কের দায় নেবে না যোগাযোগ মন্ত্রণালয়
২৪ জুলাই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতায় প্রায় সারা দেশে ২১ হাজার ৫৭১ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ৩ হাজার ৫৭০ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার এবং জেলা সড়ক ১৩ হাজার ৬৭৮ কিলোমিটার।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন সড়ক ছাড়াও সারা দেশে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ/স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সড়ক নেটওয়ার্ক বিদ্যমান আছে। এ সড়কগুলো এলজিইডি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ অন্যান্য সংস্থার অধীন।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, অন্যান্য সংস্থার আওতাধীন সড়কগুলোর নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ ফ্লাইওভার, ওভারপাস নির্মাণসহ যাবতীয় কাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান করে থাকে। অন্যান্য সংস্থার সড়কসমূহের নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা অন্য কোনো কাজ করার কোনো আইনগত এখতিয়ার সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নেই। একই কারণে এর দায়-দায়িত্ব কোনোক্রমেই সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ওপর বর্তায় না বলেও জানিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
খানাখন্দে সওজের রাস্তা
২১ হাজার ৫৭১ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে সওজের। এসব সড়কের ৬০ শতাংশ রাস্তার অবস্থাই বেহাল।
সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে, দেশের ১৪টি সড়ক ও মহাসড়ক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকির মধ্যে থাকা মহাসড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ-শেরপুর-নেত্রকোনা, সিলেট-তামাবিল, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ, ঢাকা-বরিশাল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। এ ছাড়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বাইপাস সড়ক, যশোর-নওয়াপাড়া, খুলনা-বাগেরহাট-মংলা, জয়দেবপুর-ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ, গাজীপুর-পুবাইল-কালীগঞ্জ, কুমিল্লা (ময়নামতি)-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও বহদ্দারহাট টার্মিনাল সংযোগ সড়ক।
সম্প্রতি প্রতিবেদনটি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগে পৌঁছেছে। সড়ক বিভাগ থেকে গোয়েন্দা সংস্থার চিহ্নিত এসব সড়ক ও মহাসড়ক ঈদের আগেই সংস্কার ও মেরামতের জন্য সওজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠিত আটটি মনিটরিং কমিটি নিয়মিত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক পরিদর্শন করে সওজকে নির্দেশনা দিচ্ছে। তবে সওজ সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখাচ্ছে।
‘আমি হলেও ধর্মঘট করতাম’
টানা এক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক পরিদর্শন করছেন যোগাযোগমন্ত্রী। সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে মন্ত্রীও হতাশ-হতবাক! এরই মধ্যে সওজের বেহাল অবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সওজের অনেক কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে কর্তব্য কাজে অবহেলার জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ এবং কাউকে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন তিনি।
যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই এলাকার জনগণ সড়কের বেহাল পরিস্থিতি তুলে ধরছেন। তোপের মুখে পড়ছেন মন্ত্রীও। শুক্রবার বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই চাঁদপুর সড়ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, “চাঁদপুরের বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কের এতোটাই করুণ যে, জনগণ কেন আমি হলেও ধর্মঘট করতাম।”
মন্ত্রীর নির্দেশও অমান্য
গত সোমবার যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদ পর্যন্ত সড়কের মেরামতের কাজে মোবাইল ইউনিট কাজ করবে। ট্রাকে এ ইউনিটের কাছে ইট বালিসহ সড়কের নির্মাণ সামগ্রী থাকবে। যেসব সড়কে গর্ত দেখা যাবে সেখানে এ ইউনিট তাৎক্ষণিক মেরামত করবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শন করে দেখা গেছে, এখনও অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা। রাস্তাজুড়ে কাদার স্তূপ। বিশাল বিশাল গর্ত, কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি জমে জলাশয় হয়ে গেছে। এসব রাস্তা দিয়ে যারা চলাচল করেন, তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
রাস্তায় মোবাইল ইউনিটের কার্যক্রমও চোখে পড়ার মতো নয়। ফলে মন্ত্রীর নির্দেশ এখন পর্যন্ত উপেক্ষিতই রয়ে গেছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

%d bloggers like this: